প্রেম রাওয়াতের প্রতিকৃতি

প্রেম রাওয়াত: এই জীবনকে আবিষ্কার করো

আমি যে বিষয় নিয়ে কথা বলি, তা সরল অথচ গভীর।

কেউ কেউ হয়তো এটিকে অতিরিক্ত সরল মনে করতে পারেন, কিন্তু তার মানে এই নয় যে এটি গুরুত্বপূর্ণ নয়।

আমি কথা বলি শ্বাসের সরলতা নিয়ে এবং তোমার জীবনে প্রতিটি দিনের আসা ও চলে যাওয়া নিয়ে।

 

 

প্রেম রাওয়াতের অনুষ্ঠান

আমি মানুষকে মনে করিয়ে দিই যে, প্রতিটি নতুন দিন হলো তাদের জীবনে পাওয়া সবচেয়ে মূল্যবান উপহারগুলোর একটি।

অতুলনীয়।

অনেক মানুষের কাছে কথাটি অর্থপূর্ণ, অথচ আবার অর্থপূর্ণ নয়। আমরা জানি প্রতিটি দিন গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু আমরা সেভাবে তা গ্রহণ করি না। একটি দিনের গুরুত্ব নির্ভর করে সেই দিনে আমরা কী অর্জন করেছি তার ওপর।

 

 

আমাদের জীবনকে একটি দাঁড়িপাল্লায় তুলে দেওয়া হয়েছে, আর যে ওজন দিয়ে তাকে মাপা হয়, তা আমাদের এই পৃথিবীই দিয়েছে।

সবকিছুর বিচার হয় ব্যর্থতা অথবা সাফল্যের মাপকাঠিতে।

অথচ আমাদের একটি মূল্যবান উপহার দেওয়া হয়েছে। আমাদের বিবাহবার্ষিকী ও জন্মদিন রয়েছে, আর আমরা একে অপরকে উপহার দিই। কিন্তু তুমি কি কোনো গরিলাকে হীরের আংটির মতো মূল্যবান কিছু উপহার দেবে? কেন নয়? গরিলারও তোমার মতো আঙুল আছে, কিন্তু সে কখনোই এর মূল্য বুঝতে পারবে না।

 

 

প্রেম রাওয়াতের অনুষ্ঠানের শ্রোতারা

একটি গরিলাকে হীরের আংটি দাও, সে সেটির স্বাদ নেওয়ার চেষ্টা করবে, সেটিকে সুস্বাদু মনে হবে না, এবং সম্ভবত সেটি ছুড়ে ফেলে দেবে।

আমরাও কি সেই গরিলার মতো, যার হাতে জীবনের হীরের আংটি তুলে দেওয়া হয়েছে?

অনেকভাবেই আমরাও একই কাজ করি—তার স্বাদ নিই এবং বলি, “আমার জীবন ভালো নয়। আমাকে এটা করতেই হবে। আমাকে এটা অর্জন করতেই হবে। আমাকে এখানে উঠতেই হবে। আমাকে সেখানে থাকতেই হবে। আমাকে এই পদবি পেতেই হবে। আমার জীবনে এটা ও সেটা থাকতেই হবে।”

 

 

আর যা ভুলে যাওয়া হয়, তা হলো অস্তিত্বের মূল্য, এই শ্বাসের মূল্য—যা প্রতিটি মুহূর্তে এসে আমাদের আশীর্বাদ করছে।

এটাই সেই আশীর্বাদ। কিন্তু আমরা জানি না কীভাবে তা গ্রহণ করতে হয়।

 

 

প্রেম রাওয়াতের সরাসরি অনুষ্ঠান ও শ্রোতারা

আমরা আমাদের জীবনের সবকিছুকেই শর্তসাপেক্ষ করে তুলি:

“তুমি ভালো ছেলে বা মেয়ে, যদি তুমি এটা, এটা এবং এটা করো। তুমি ভালো স্ত্রী বা ভালো স্বামী, যদি তুমি এটা, এটা এবং এটা করো। আর তুমি ভালো বন্ধু, যদি তুমি এটা, এটা এবং এটা করো...”

কিন্তু শ্বাসের কোনো শর্ত নেই। যখন আমাদের শ্বাস দেওয়া হয়, তখন আমাদের বলা হয় না, “তুমি এটা ও এটা করলে তবেই আমি তোমাকে এই শ্বাস দেব।” এটি স্বাধীনভাবে দেওয়া হয়, কোনো বিচার ছাড়াই।

 

 

তুমি যখন আয়নায় তাকাও, তখন যে মুখটির দিকে তাকিয়ে আছ, সে তোমার বিচার চাইছে না।

সে প্রশংসা চাইছে। সে গ্রহণযোগ্যতা চাইছে—এই জীবনকে গ্রহণ করা, এই শ্বাসকে গ্রহণ করা, এই হৃদয়ের সরল তৃষ্ণাকে গ্রহণ করা।

 

 

ভার্সাইয়ের শ্রোতারা

যে আনন্দের সন্ধান তুমি প্রতিদিন করো,

সেই আনন্দই তোমার সন্ধান করছে—তোমাকে আলিঙ্গন করতে, তোমাকে গ্রহণ করতে এবং তোমাকে পরিপূর্ণ করতে। আমি তোমাকে বলতে এখানে এসেছি যে, তুমি যে শান্তির সন্ধান করছ, তা তোমারই অন্তরে রয়েছে।

 

 

তুমি যে জীবন যাপন করে আসছ, সেই জীবনকে আবিষ্কার করো।

জীবনটিকে সেইভাবে আবিষ্কার করো, যেভাবে তা যাপন করার জন্য—আনন্দে, কৃতজ্ঞতায়, সৌন্দর্যে। প্রতিটি দিনের সম্ভাবনাকে আবিষ্কার করো। সেই ছন্দকে আবিষ্কার করো—যখন সূর্য দিগন্তে আলো ছড়ায়, আলো আসে এবং জাগরণ ঘটে; তারপর আসে সূর্যাস্ত ও নিদ্রা—সবকিছু মুছে যায় এবং আরেকটি দিন শুরু হয়।

 

 

সেটিকে আবিষ্কার করো।

 

মনোযোগ দিয়ে শুনছেন শ্রোতারা

এই অস্তিত্ব আসলে এই নিয়েই। শান্তিও আসলে এই নিয়েই, কারণ শান্তি গতকালের মধ্যে নেই এবং শান্তি আগামীকালের মধ্যেও নেই—শান্তি হলো আজ।

আগামীকাল হলো প্রত্যাশা।

গতকাল হলো শুধু স্মৃতি।

আর আজ হলো উপহার। সবচেয়ে সত্যিকারের উপহার। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপহার।

— প্রেম রাওয়াত