ইন্ডিয়া টাইমস-এর জন্য প্রেম রাওয়াতের লেখা একটি প্রবন্ধ, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০০৩।
যখন অসহিষ্ণুতা চরম মাত্রায় পৌঁছে যায়, তখন যুদ্ধ শুরু হয়।
যখন যুদ্ধের কারণগুলো শান্তির পবিত্রতার চেয়ে বড় হয়ে ওঠে। আমরা যখন জীবিত থাকার মূল্য উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হই, তখন যুদ্ধ শুরু হয়। বিশ্বের নেতারা শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন, কিন্তু এটি কোনো প্রতিষ্ঠানগত বিষয় নয়। যুদ্ধ শুরু করে মানুষই। বাইরে কোনো যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে, তা শুরু হয় অন্তরে।

অন্তরের যুদ্ধ আরও বিপজ্জনক, কারণ এটি এমন এক আগুন, যা হয়তো কখনোই নেভানো যাবে না।
যুদ্ধ চলছে, কারণ অন্তরে শান্তিকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, কারণ তাকে প্রকাশিত হতে দেওয়া হচ্ছে না। আমরা সবাই কোনো না কোনো কিছুর সন্ধান করছি—আমরা তাকে সাফল্য, শান্তি, ভালোবাসা অথবা প্রশান্তি বলতে পারি। আসলে তা একই জিনিস। আমরা যে জিনিসটির সন্ধান করছি, তার অনেক নাম রয়েছে, কারণ আমাদের কী প্রয়োজন তা আমরা জানি না। আমাদের যা প্রয়োজন তা খুঁজে পেতে আমরা আমাদের চারপাশে তাকাই। আমরা যা খুঁজছি তা কোথায় পাওয়া যাবে, তা জানতে হলে প্রথমে নিজেদের জিজ্ঞেস করতে হবে, আমরা তা কোথায় খুঁজে পেতে পারি। আমরা কি কখনো অন্তরের দিকে তাকানোর কথা ভেবেছি?
জীবনযাপন সহজ কাজ নয়, বিশেষ করে যদি আমরা এর সর্বোত্তমটুকু পেতে চাই।
এর জন্য আমাদের খনন করতে হবে। খনন করা সহজ নয়। আমাদের যা প্রয়োজন, তা তুলে নিতে হবে এবং বাকিটা রেখে দিতে হবে। আমরা যদি শান্তির সন্ধানে খনন করতে চাই, তাহলে যা মূল্যবান তা খুঁজে নিতে হবে এবং যা মূল্যবান নয় তা বাদ দিতে হবে। আমরা যে জিনিসটির সন্ধান করছি, তা আমাদের বাইরে নয়। তা আমাদের অন্তরে রয়েছে। তা সবসময়ই ছিল এবং সবসময়ই থাকবে। তৃপ্তি ভালো লাগে, আর তা কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়। শান্তি ভালো লাগে—এটিও কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়। শান্তি ইতিমধ্যেই এখানে রয়েছে, এবং তা সকল মানুষের হৃদয়ে বিরাজ করে।
শান্তি এমন একটি বিষয়, যা অনুভব করতে হয়।

আমাদের সবচেয়ে অসাধারণ শক্তিগুলোর একটি হলো আমরা অনুভব করতে পারি। যখন আমরা অনুভব করার সেই শক্তির সামনে শান্তিকে রাখি, তখন আমরা শান্তি অনুভব করি। আমরা এখানে কৃতজ্ঞতা, ভালোবাসা ও উপলব্ধিতে পরিপূর্ণ হওয়ার জন্য। আমাদের অন্তরে এমন উজ্জ্বল একটি প্রদীপ রয়েছে যে, সবচেয়ে অন্ধকার রাতেও তা আমাদের পৃথিবীকে আলোয় ভরিয়ে দিতে পারে। এই আলো খুঁজে পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। শান্তি কোনো ভেদাভেদ করে না। আমরা ধনী না দরিদ্র, অথবা আমরা কোন ধর্মের অন্তর্ভুক্ত—তা নিয়ে তার কোনো মাথাব্যথা নেই। আমরা কোন দেশে বাস করি, তা নিয়েও তার কোনো পরোয়া নেই।
শান্তি খুঁজে পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।
আবারও সম্পূর্ণ অনুভব করার অপেক্ষায়—আমাদের জীবনকে যেসব বিষয় বিভক্ত করে, সেগুলোর দ্বারা বিচ্ছিন্ন না হয়ে। শান্তি তখনই, যখন হৃদয় আর দ্বৈততার মধ্যে থাকে না, যখন অন্তরের সংগ্রামের অবসান ঘটে। হৃদয়ে যখন শান্তি আসে, তখন প্রশান্তি তার অনুসরণ করে। ভালোবাসা অপ্রতিরোধ্যভাবে প্লাবনের মতো এসে প্রবেশ করে। আনন্দকে আর আটকে রাখা যায় না। তা প্রবলভাবে প্রকাশিত হয়, কারণ সেটিই স্বাভাবিক। এটাই শান্তি। শান্তিকে অনুভব করতে হয়, ভালোবাসাকে অনুভব করতে হয়, সত্যকে অনুভব করতে হয়। যতদিন আমরা জীবিত, ভালো অনুভব করার, আনন্দ অনুভব করার আকাঙ্ক্ষা সবসময়ই থাকবে, আর যতদিন সেই আকাঙ্ক্ষা থাকবে, ততদিন তাকে আবিষ্কার করারও প্রয়োজন থাকবে।

জীবন একটি যাত্রা।
আমরা জীবন নামের একটি ট্রেনের যাত্রী, আর আমরা এখন নামের এই মুহূর্তে জীবিত। জীবনের যাত্রা এত সুন্দর যে এর কোনো গন্তব্যের প্রয়োজন নেই। এই যাত্রায় আমাদের একটি দিকনির্দেশক দেওয়া হয়েছে। সেই দিকনির্দেশক হলো পরিতৃপ্ত হওয়ার তৃষ্ণা। জীবনের সত্যিকারের যাত্রা শুরু হয় সেই দিন, যেদিন আমরা আমাদের তৃষ্ণা নিবারণের সন্ধান শুরু করি।
এই অনুসন্ধানই সর্বশ্রেষ্ঠ অনুসন্ধান।
বহু শতাব্দী ধরে একটি কণ্ঠ বলে আসছে: “তুমি যা খুঁজছ, তা তোমারই অন্তরে রয়েছে। তোমার সত্য তোমার অন্তরে রয়েছে, তোমার শান্তি তোমার অন্তরে রয়েছে, তোমার আনন্দ তোমার অন্তরে রয়েছে।” আমাদের হৃদয়ে শান্তি যেন মরুভূমিতে অপেক্ষমাণ একটি বীজ—বেড়ে ওঠার, প্রস্ফুটিত হওয়ার অপেক্ষায়।
যখন আমরা এই বীজটিকে অন্তরে প্রস্ফুটিত হতে দিই, তখন বাইরেও শান্তি সম্ভব হয়। আমাদের শান্তিকে একটি সুযোগ দিতে হবে।
আমরা কি শান্তিকে একটি সুযোগ দেব?