হৃদয়ের কথা শুনুন
একদিন এই ‘আপনি’ আর এখানে থাকবেন না।
এটাই নিশ্চিত।
আসলে কাকে বোকা বানাচ্ছেন?
আপনি এখানে থাকবেন না। আমিও থাকব না। এটাই বাস্তবতা। এমনই হয়ে এসেছে বরাবর। আর এরপর কী হবে? কেউ জানে না।
যেমন যথার্থই বলা হয়, “ধুলো মিশে যায় ধুলোয়।” বেশ বলা হয়েছে! হ্যাঁ, ধুলোয় মিশে যাওয়া।
“ছাই মিশে যায় ছাইয়ে।” সেটাই হবে। এ নিয়ে বাজি ধরলেও ভুল হবে না। এটা একেবারে নিশ্চিত।
আর এই মুহূর্তে আপনার কী আছে?
আপনার অস্তিত্ব আছে।
একবারে একটি করে শ্বাস নেওয়ার সেই সহজ কাজটুকু। জানেন, এর মানে কী? কখনও বসে ভেবে দেখেছেন? সত্যিই অনুভব করে দেখেছেন?
যখন শ্বাস নিতেই প্রাণান্তকর কষ্ট হচ্ছে, তখন তার গুরুত্ব বুঝতে একটু দেরি হয়ে যায়। আমিও দেখেছি—মানুষ শুয়ে আছে, একটুখানি শ্বাস নিতে কী ভীষণ কষ্ট করছে। তখন তারা বুঝতে পারে, তখন তারা বুঝতে পারে সবকিছু কত মূল্যবান।
সেই সময়, যখন শ্বাস নেওয়ার জন্য হিমশিম খাচ্ছে, কেউ এসে যদি বলে, “আপনার গাড়িটা একটু ধার নিতে পারি?” তখন উত্তর হবে, “আরে, নিয়ে যান! একেবারে রেখে দিন!”
“কিন্তু আপনি তো এখন মারা যেতে পারেন না; এখন শ্বাস নেওয়া বন্ধ করতে পারেন না, কারণ পনেরো মিনিট পর আপনার আইনজীবীদের সঙ্গে বৈঠক আছে!”
তাতে কী! “ওঁদের আমার নমস্কার জানাবেন... আচ্ছা, চললাম।”
এক মুহূর্তের জন্য কোনো একটা বিষয় অবিশ্বাস্য রকম স্পষ্ট হয়ে ওঠে। কিন্তু এমন পরিস্থিতির অপেক্ষা করার দরকার নেই। সেই স্বচ্ছ উপলব্ধি আপনার জীবনে এখনই থাকতে পারে।
এ কেবল ‘কথা’ নয়।
আমি মানুষকে যা দিই, তা হলো নিজের ভেতরে যাওয়ার একটি উপায়। আয়নার মতো—যে উপায়ে নিজের ভেতরটা দেখা যায়।
মানুষ বলে, “আচ্ছা, এটা আমার কেন দরকার?”
দেখুন, আপনার চোখ তো খুব ভালো; কত কিছুই দেখতে পান। কিন্তু একটি জিনিস আপনার চোখ দেখতে পারে না—নিজের মুখ।
আপনি নিজের হাত দেখতে পান, জুতোও দেখতে পান, কিন্তু নিজের মুখটি নিজের চোখে দেখতে পান না। তার জন্য আয়না লাগে।
আমি সেটাই দিই—নিজের ভেতরে যাওয়ার, সেখানে থাকা সৌন্দর্যকে প্রাণভরে উপভোগ করার একটি উপায়।
সেই সৌন্দর্য আমি তৈরি করি না। এটা মনের তৈরি কোনো ব্যাপারও নয়।
এটা কোনো বই থেকে আসে না; মানুষের ধারণা থেকেও আসে না। এটা আপনার ভেতরেই আছে।
আর আমি মানুষকে বলি, আসুন, শুনুন। তারপর ভেবে দেখুন।
তাড়াহুড়ো করবেন না—ভেবে দেখুন। প্রশ্ন থাকলে জিজ্ঞেস করুন।
বিচার করুন, যাচাই করুন, অনুভব করুন। তারপর—যখন আপনি প্রস্তুত—তখন তা আপনার হবে।
এটাই সেই প্রক্রিয়া। কত সহজ, কত সুন্দর।
আর এটাই আমি মানুষকে দিচ্ছি।
আপনার আগ্রহ থাকলে যোগাযোগ করতে পারেন, আরও তথ্য জানতে পারেন—আসুন, শুনুন।
আর যদি আগ্রহ না থাকে—তাতেও অসুবিধা নেই।
সেই অমূল্য সম্পদ তবু আপনার ভেতরেই থাকবে।
সেই সৌন্দর্য সবসময় আপনার ভেতরেই থাকবে।
আপনার আগ্রহ না থাকলেও কোনো অসুবিধা নেই। শুধু মনে রাখবেন—আপনি একটি অমূল্য উপহার পেয়েছেন; আর সবচেয়ে বিস্ময়কর এক ঘটনা ঘটেছে।
সেই বিস্ময়টা পাথর ফুঁড়ে গাছ জন্মানোর মতো কিছু নয়... সেই বিস্ময় আপনি নিজেই।
আপনিই সেই বিস্ময়।
আর যদি কোনোভাবে আপনি সেই হৃদয়কে উন্মুক্ত করতে পারেন, তাকে বুঝতে ও অনুভব করতে পারেন, আর হৃদয়ের সেই বইয়ের শব্দগুলো একটির পর একটি পড়তে শুরু করেন, তবে সেই বই থেকে উপকার পাবেন আপনিই।