ছবি - ফুলের নকশা

আমি খুঁজি—কেন খুঁজি, জানি না।
আমি খুঁজি, কারণ আমার মনে হয় আমার খোঁজা উচিত। আমি খুঁজি, কারণ আমি পড়েছি, “এটা করা ভালো।” আর এই পুরো সময়টাতে আমি আসল জাদুটাই বুঝতে পারি না। এখন, সেই জিনিসটি কী, সে সম্পর্কে তোমাদের বলি।

তৃপ্ত হওয়ার এই আকাঙ্ক্ষা এতটাই সহজাত, এতটাই মৌলিক। আমি “তৃপ্ত” শব্দটি ব্যবহার করছি, আর হয়তো এটি একেবারেই যথাযথ শব্দ নয়—তাতে কিছু যায় আসে না। কারণ, দেখো, এই অনুভূতিটি আছে—এটি একটি অনুভূতি।

 

 

 

 

 

যতদিন ধরে ভাষা আছে, আর মানুষ লিখতে শিখেছে, ততদিন ধরেই সে এই অনুভূতিটিকে বর্ণনা করার চেষ্টা করেছে।

সে একে “শান্তি” বলেছে, আর সেটি যথেষ্ট ছিল না। সে তা জানত।

প্রশান্তি—যথেষ্ট ছিল না। নির্মল শান্তি—যথেষ্ট ছিল না। ভালোবাসা—যথেষ্ট ছিল না। আনন্দ—যথেষ্ট ছিল না।

 

 

 


 

 

ছবি - ফুলের নকশা

এই মৌলিক তৃষ্ণার, এই মৌলিক অনুসন্ধানের শক্তি—এই শক্তিটাকে তোমাদের বুঝতেই হবে। আর শুধু বুঝলেই হবে না, এর কাছে নিজেকে সমর্পণ করতে হবে। কারণ এর সঙ্গে লড়াই করা যায় না। তাকে তোমাকে জয় করতে দাও। তাকে আসতে দাও। আর তাকে তোমাকে নিজের মধ্যে শুষে নিতে দাও। কারণ সেটাই হবে শান্তির মধ্যে শোষিত হয়ে যাওয়া, শোষিত হয়ে যাওয়া... কীভাবে? সমুদ্রের মধ্যে পড়া এক ফোঁটা জলের মতো।

 

 

 

 

সে মেঘ ছেড়ে বেরিয়ে আসে আর সে এক ফোঁটা, আর এক ফোঁটা, আর এক ফোঁটা, আর এক ফোঁটা, আর এক ফোঁটা...

আর যে মুহূর্তে সে সমুদ্রের সঙ্গে মিলিত হয়, সে-ই সমুদ্র হয়ে যায়; সে আর এক ফোঁটা থাকে না।

দেখলে কীভাবে ব্যাপারটা কাজ করে? কী আশ্চর্য, তাই না? ছোট্ট এক ফোঁটা, একেবারে ক্ষুদ্র এক ফোঁটা—কয়েক হাজার ফুট নিচে পড়ছে: ফোঁটা, ফোঁটা, ফোঁটা, ফোঁটা, ফোঁটা। তার নিজস্ব সত্তা আছে, তার নিজস্ব পরিচয় আছে, সে একটি ফোঁটা। তার অস্তিত্ব আছে, সে একটি “জিনিস”, আর সে ছোট্ট।

 

 

 

 

 

ছবি - ফুলের নকশা

আর সে পড়ছে, আর পড়ছে, আর পড়েই চলেছে... আর তার কোনো choice নেই। বাতাস যদি তাকে ঠেলে দেয়, সে সরে যায়। আর বাতাস যদি নিচ থেকে তাকে ঠেলে দেয়, সে একটু ওপরে উঠে যায়—তার পতনের গতি ধীর হয়ে যায়। তারপর আবার শুরু হয়। বাতাস যদি ডান দিক থেকে আসে, সে সরে যায়; বাঁ দিক থেকে এলে সেদিকেও সরে যায়।

 

 

 

 

আর, যে কোনো উপাদান তার ওপর প্রভাব ফেলতে চায়, সে তারই দাস। আর সে পড়তেই থাকে, পড়তে থাকে, পড়তে থাকে, তারপর এই ছোট্ট জাদুকরী মুহূর্তে “ধপ্” করে। আর তুমি যদি কখনো এটা দেখে থাকো—জানি না দেখেছ কি না—যখন বৃষ্টি হয় এবং বৃষ্টির ফোঁটা সমুদ্রের ওপর পড়ে, তখন একটি ছোট্ট ঢেউয়ের রেখা তৈরি হয়—আর তারপর সে অদৃশ্য হয়ে যায়, চলে যায়। তার শেষ চিহ্নটুকু হলো সেই ছোট্ট ঢেউয়ের রেখা। খুব বড় নয়, খুব বিস্তৃত নয়—আর সে শোষিত হয়ে গেছে।

 

 

 

 

ছবি - ফুলের নকশা

তোমাদের কথা জানি না, কিন্তু আমি সেটাই চাই—সেই আনন্দের মধ্যে শোষিত হয়ে যেতে। যেখানে এখন আমরা অবিচ্ছেদ্য। এখন, বাতাস, এগিয়ে এসো, তোমার কাজ করো—আমাকে নাড়িয়ে দেখো। এখন আমি আর অসহায় নই, বরং এখন আমি সমুদ্রের দৃঢ়তা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছি—যদিও, বলে রাখি, সমুদ্র তো তরলই।

 

 

কিন্তু এখন—আমি কি এখনও চলনশীল?
অবশ্যই।
আমি অসাধারণ সব জায়গায় যাব—একটি ফোঁটা হিসেবে যা আমি কল্পনাও করতে পারতাম না।

আমি নানা জায়গায় যাব,
আমি নানা কিছু দেখব,
আর আমি সেই মহিমান্বিত সমুদ্রের একটি অংশ হয়ে থাকব।

ছবি - ফুলের নকশা