প্রতিটি মানুষের অন্তর থেকে এক অসাধারণ আকাঙ্ক্ষা উঠে আসে।
আমাদের প্রত্যেকের অন্তরে শান্তি মরুভূমির একটি বীজের মতো, প্রস্ফুটিত হওয়ার অপেক্ষায়।
সে কোনো ভেদাভেদ করে না। আমরা ধনী না গরিব, কোন ধর্মের অন্তর্ভুক্ত, কিংবা কোন দেশে বাস করি—এসব তার কাছে কোনো বিষয় নয়।
সে শুধু জল চায়।
বীজের মতোই, জল আসার সেই সময়ের অপেক্ষায় সে পড়ে থাকে।
আমাদের হৃদয়ের মধ্যে সে অপেক্ষা করে, আর আর কিছুই চায় না—শুধু পরিপূর্ণ হতে চায়, আবার সম্পূর্ণতার অনুভূতি পেতে চায়; আমাদের জীবনের মধ্যে প্রবেশ করা সমস্ত বিষয়ের দ্বারা যেন বিচ্ছিন্ন না হয়।

শান্তির সূচনা হয় প্রতিটি মানুষের মধ্যে।
শান্তি এমন একটি বিষয়, যা প্রতিটি হৃদয়ে অনুভব করতে হয়।
যুদ্ধের অনুপস্থিতি শান্তি নয়।
শান্তি কোনো প্রতিষ্ঠানগত বিষয় নয়। মানুষই যুদ্ধ শুরু করে। মানুষ যদি শান্তিকে সম্মান করতে শুরু করে, তাহলে শান্তি থাকবে।
আমরা যে শান্তির সন্ধান করছি, তা আমাদেরই অন্তরে রয়েছে। সেখানেই আমরা তা খুঁজে পাব। প্রতিটি মানুষের হৃদয়ের মধ্যেই শান্তি রয়েছে।
আমরা যদি আমাদের জীবনে শান্তি চাই, তা অবশ্যই সম্ভব।
আমাদের শান্তি সৃষ্টি করতে হবে না; আমাদের শুধু তাকে স্বাগত জানাতে হবে।
এত মানুষ শান্তি নিয়ে আসার চেষ্টা করছেন। শান্তি ইতিমধ্যেই এখানে রয়েছে এবং তা সকল মানুষের হৃদয়ে বিরাজ করে—সবসময়ই ছিল এবং সবসময়ই থাকবে।
আমাদের প্রত্যেকেই এই অপূর্ব পৃথিবীর এক অপূর্ব বাস্তবতা, আর আমাদের অন্তরে রয়েছে অপরিমেয় শান্তি, অপরিমেয় আনন্দ।
এই বাস্তবতা প্রাচীনকালের মধ্যে নেই, আবার আধুনিক বিজ্ঞানের মধ্যেও নেই।
এটি আকাশের ওপরে কোথাও নেই, বরং আমাদের অন্তরের স্বর্গে রয়েছে।
সমস্ত ভালো এবং মন্দ, যা কিছু ঘটবে এবং ঘটবে না, যে যুদ্ধগুলো সংঘটিত হবে এবং যে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে—এই সমস্ত কিছুর সমষ্টির চেয়েও প্রতিটি মানুষের অস্তিত্ব বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
এটাই আমাদের সময়; এটাই আমাদের জীবিত থাকার সুযোগ।

যে শ্বাস এত নিঃশব্দে, এত নীরবে প্রত্যেকের মধ্যে প্রবেশ করে, সে খুব জোরে এবং স্পষ্টভাবে একটি বার্তা চিৎকার করে জানাচ্ছে।
বার্তাটি কী?