চোখ খুলুন এবং প্রতিটি পদক্ষেপ আন্তরিকতা ও সচেতনতার সঙ্গে এগিয়ে নিন।
আপনার অন্তরের চোখ খুলুন। হৃদয়ের এই অপূর্ব নগরীতে চারদিকে তাকান।
এর সুন্দর সুন্দর প্রশস্ত পথগুলো দেখুন। আর দেখুন, শান্তি কীভাবে
আপনার দিকে এগিয়ে আসছে। তারপর থেমে যান।
একেবারে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকুন, যাতে শান্তি আপনাকে খুঁজে পায়।
একটুও নড়বেন না। একটুও না।
তাকে আসতে দিন, আপনাকে স্পর্শ করতে দিন,
আপনাকে সম্পূর্ণভাবে আবৃত করে নিতে দিন।
আপনার অন্তর থেকে উঠে আসা সেই অপূর্ব ভালোবাসাকে আসতে দিন,
আপনাকে তার আলিঙ্গনে জড়িয়ে ধরতে দিন।
স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকুন। একেবারে, একেবারে স্থির।
কোনো ভাবনার কিংবা স্বপ্নের এক কোণে লুকিয়ে নয়,
বরং সবচেয়ে প্রশস্ত পথের ওপর, সবচেয়ে ব্যস্ত রাস্তার মোড়ের ঠিক মাঝখানে।
স্থির থাকুন, কিন্তু নিজের উপস্থিতি আড়াল করবেন না।
নিজেকে অদৃশ্য করে ফেলার অভিনয় করবেন না।
এটা আপনার জীবনে নিজেকে লুকিয়ে রাখার সময় নয়।
জীবনের যে দিনটিই আপনাকে দেওয়া হয়েছে,
সেদিনই আপনি হৃদয়ের নগরীতে যেতে পারেন।
এটা 'বিনয়ী' সাজার সময় নয় — না।
এখন নিজেকে আড়াল না করে উপস্থিত থাকার সময়।
যেমন এই জীবন স্পষ্ট। যেমন এই শ্বাস স্পষ্ট —
তাই নয় কি? একেবারেই স্পষ্ট।
আপনার অস্তিত্ব স্পষ্ট ও প্রকাশ্য।
তা কোনো পাহাড়ের কোনো পাথরের নিচে লুকিয়ে নেই।
তা কোনো সবুজে ঘেরা বনের ঘাসের নিচেও লুকিয়ে নেই।
এখানেই আছে, একেবারে স্পষ্ট। আপনার অন্তরের অনুসন্ধানও স্পষ্ট।
এই অনুসন্ধান সবসময়ই ছিল,
আর তা পূর্ণতা লাভ করতে চায়।
আর সবচেয়ে বিস্ময়কর জাদু, সবচেয়ে অলৌকিক ঘটনা ইতিমধ্যেই ঘটেছে —
আপনাকে জীবন দেওয়া হয়েছে।
আপনাকে জীবন দেওয়া হয়েছে,
যাতে এই অভিজ্ঞতা সম্ভব হয়। যাতে তা বাস্তবে প্রকাশ পায়।
এই অস্তিত্ব আসলে কী? একে ছোট করে দেখবেন না।
এই অস্তিত্ব কী? আমি আপনাকে বলছি, এই অস্তিত্ব আসলে কী।
এটি সত্যিই অসাধারণ। আর জানেন, কেন এটি এত বিশেষ?
কারণ এই জীবন এক সেতু —
সসীম ও অসীমের মধ্যে এক অসাধারণ সেতু।
এখানেই তা ঘটে। এখানেই দুয়ের মিলন হয়।
এটাই সেই মিলনস্থল, যেখানে দুয়ের সাক্ষাৎ হতে পারে —
যেখানে নশ্বর মানুষ অমরত্বের অভিজ্ঞতা লাভ করতে পারে।
আর কিছুই নয়।